বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৬:১০ অপরাহ্ন

নোটিশ :
**জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ ॥ সরকারি তথ্য ও সেবা-৩৩৩ ॥ নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেবা-১০৯ ॥ দুদক-১০৬ ॥ **পুলিশ সুপার (চট্টগ্রাম জেলা)- ০১৩২০-১০৭৪০০ ॥ চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭- ০১৭৭৭-৭১০৭০০ ॥ রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-০১৭৩৩-১৪১৮৪৩  ॥ রাউজান থানার ওসি-০১৩২০-১০৭৭০৪ ॥ সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল)-০১৩২০-১০৭৪৭১ ॥ রাউজান ফায়ার সার্ভিস-০১৮৮৬-৩৯৯২৭৫ ॥ রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস-০১৮৬০-৫৬৫৬৭৫ ॥ হাটহাজারি ফায়ার সার্ভিস-০১৭৩০-০০২৪২৭ ॥ কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস-০১৭৩০-০০২৪৩৬ ॥ রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-০১৭৫১-৮৯৮৮২২ ॥ চট্টগ্রাম পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২-০১৭৬৯-৪০০০১৯ ॥ **মাদক-যৌতুক-ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ’কে না বুলন **গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান **আপনার ছেলে-মেয়েকে স্কুল ও মাদ্রাসায় পাঠান **পাখি শিকার নিজে করবেন না অন্যকে করতে দিবেন না **মাদক মুক্ত সোনার বাংলা গড়ি **ইসলাম ধর্মের সবাই নামাজ পড়ি **হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নিজ ধর্ম পালন করুন **খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকুন। **বিহঙ্গ টিভিতে যোগাযোগর ঠিকানা: ফোন: ০১৫৫৯-৬৩৩০৮০, ই-মেইল: newsbihongotv.com, (সবার জন্য বিহঙ্গ)

শিক্ষকের ঋণ

ডঃশিপক নাথ:: যে মানুষটার শিক্ষায় আজ আমি নিজেকে মানুষ বলে দাবি করি তিনি হচ্ছেন আমার শিক্ষক। মা-বাবার পরে যে মানুষটা আমাদের হাতে ধরে পৃথিবী চিনিয়ে দেন সে মানুষটাকে একটা সময় এক প্রকারে আমরা ভুলেই যায়। পুরো শিক্ষাজীবনে হাজারো অভিযোগ থাকে আমাদের শিক্ষকদের উপরে। অথচ শিক্ষাজীবনে একটি বার তখন ভাবিনি যে এই মানুষগুলোর জন্যে আমরা মানুষ হতে পারব। যে শিক্ষকের কড়া শাসনে আমরা সবসময় বিরক্ত হয়ে থাকতাম সে শিক্ষকদের কথা মনে পরলে আজ আমার চোখের কোণে জল গড়ায়। শিক্ষকদের ভয়ে ভয়ে শ্রদ্ধা ও সম্মান করতাম শিক্ষাজীবনে। অথচ তারাই ছিলেন আমার বাবার মতো দায়িত্বশীল একজন মানুষ। যে মানুষেরা আমাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতেন, ভালো-মন্দ বিচার করার জন্য আমাদের মস্তিষ্কে বুদ্ধি ও হৃদয়ে বিবিধ তৈরি করিয়ে দিতেন অতি সুদ্ক্ষ হাতে। মন থেকে ভালোবাসার আগেই আমরা অনেক সময় হারিয়ে ফেলি সেই শিক্ষকদের। যাদের জন্য আজ আমরা মানুষ নামধারী। একটা সময় প্রতিটা মানুষ শৈশবে ফিরে যেতে চাই। ঠিক তেমনি আমিও ফিরে যেতে চাই। খুব মনে হয় যদি আরেকটাবার ফিরে যেতে পারতাম সেই বিদ্যালয়ে। যেখানে সাদা শার্ট আর পেন্ট পড়ে দাড়িয়ে থাকতেন আমার শিক্ষকেরা। যেখানে মায়ের মতো শাড়ির আঁচলের মায়ায় জড়িয়ে রাখতেন শিক্ষিকারা।

অল্প বেতনে ছোট্ট কোয়াটারের ঘরগুলোতে থাকতেন আমার শিক্ষকেরা। দ্রব্য মূল্যের চড়া বাজারে সংসারে নানা টানা পোড়নকে হার মানিয়ে আমাদের শিক্ষকেরা এই সমাজে মাথা উঁচু করে চলেন। তাদের মুখে অকৃত্রিম হাসি ফুটে উঠত যখন আমরা পরীক্ষায় উচ্চ নাম্বার পেতাম। সেই আনন্দময় জ্বলজ্বল করা চোখগুলো আজকাল আমাকে ভীষণ তাড়িয়ে বেড়ায়। বুকের ভেতর একটা হাহাকার যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। সেই হাহাকারের নাম হচ্ছে শিক্ষকদের সঠিক মূল্যায়ন করতে না পারা। এই অনিয়মের সমাজে আজকাল শিক্ষকেরা বেত নিয়ে শ্রেণীকক্ষে যেতে পারেন না। উচ্চস্বরে এখন তারা কথাও বলতে পারেন না। কারণ শিক্ষার্থীদের একটা অংশ এখন অপরাধের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত।

সমাজে অপসংস্কৃতি দারুণ ভাবে মিশে যাচ্ছে। যার প্রভাবে অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষকদের সাথে অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করে না। অথচ আমরা শিক্ষকদের ঐ বেতের ভয়ে নয়তো ধমকের ভয়ে একদিন মানুষ হবার অদম্য লড়াই করেছি। মাঝে মাঝে ভাবলে ভীষণ অবাক লাগে আমরা খুব অল্পতেই কত বিরক্ত হয়ে যায়। অথচ একটা পড়া না বুঝলে শিক্ষকের কাছে কত শতবার জিজ্ঞাসা করতাম। তারাও আমাদের যত্ন সহকারে অসংখ্য বার বুঝিয়ে দিতেন। কিন্তু কখনো বিরক্ত হতেন না। ধৈর্যের মশাল হাতে দৃঢ়চিত্তে সেই শিক্ষকেরাই আমাদের সঠিক মানুষ করে গড়ে তোলার কাজ করেছেন। এই আমরাই পান থেকে চুন খসলেই তাদের হেয় প্রতিপন্ন করার কোন সুযোগ হাতছাড়া করতাম না। আজকাল ভীষণ যন্ত্রণা হয়। বিবেকের কাঠ গড়াই দাড়িয়ে নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হয়। শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান না জানিয়ে উল্টো তাদের নিয়ে রসিকতা করাই ছিল আমাদের প্রধান কাজ।

আজ চাইলেও আর ফিরে পাব না সেই সোনালী দিনগুলো। যেখানে আমার শিক্ষকেরা ছিলেন আমাদের আদর্শের গুরু। তবুও আমি বার বার ফিরে যেতে চাই সেই ফেলে আসা দিনগুলোতে। যেখানে আমি চিরঋণী হয়ে আছি সকল শিক্ষকের কাছে। জয়তু আমার শিক্ষক ও শিক্ষিকারা যাদের জন্য আজ আমি এই সমাজে প্রতিষ্ঠিত..

ড. শিপক নাথ
সভাপতি, সংস্কৃত বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এই নিউজটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত,© এই সাইডের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি  
Design & Developed BY ThemeNeed.com