রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১২:২৮ অপরাহ্ন

নোটিশ :
**জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ ॥ সরকারি তথ্য ও সেবা-৩৩৩ ॥ নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেবা-১০৯ ॥ দুদক-১০৬ ॥ **পুলিশ সুপার (চট্টগ্রাম জেলা)- ০১৩২০-১০৭৪০০ ॥ চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭- ০১৭৭৭-৭১০৭০০ ॥ রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-০১৭৩৩-১৪১৮৪৩  ॥ রাউজান থানার ওসি-০১৩২০-১০৭৭০৪ ॥ সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল)-০১৩২০-১০৭৪৭১ ॥ রাউজান ফায়ার সার্ভিস-০১৮৮৬-৩৯৯২৭৫ ॥ রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস-০১৮৬০-৫৬৫৬৭৫ ॥ হাটহাজারি ফায়ার সার্ভিস-০১৭৩০-০০২৪২৭ ॥ কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস-০১৭৩০-০০২৪৩৬ ॥ রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-০১৭৫১-৮৯৮৮২২ ॥ চট্টগ্রাম পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২-০১৭৬৯-৪০০০১৯ ॥ **মাদক-যৌতুক-ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ’কে না বুলন **গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান **আপনার ছেলে-মেয়েকে স্কুল ও মাদ্রাসায় পাঠান **পাখি শিকার নিজে করবেন না অন্যকে করতে দিবেন না **মাদক মুক্ত সোনার বাংলা গড়ি **ইসলাম ধর্মের সবাই নামাজ পড়ি **হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নিজ ধর্ম পালন করুন **খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকুন। **বিহঙ্গ টিভিতে যোগাযোগর ঠিকানা: ফোন: ০১৫৫৯-৬৩৩০৮০, ই-মেইল: newsbihongotv.com, (সবার জন্য বিহঙ্গ)
সংবাদ শিরোনাম:
চোরাবালিতে আটকা পড়ে রাউজানের যুবকের মৃত্যু জেলা পরিষদের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে-নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা হাটহাজারীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্মদিন পালিত দ্রব্যমুল্যের উর্দ্বগতিতে সিরাজগঞ্জে টুইষ্টিং শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন শাহজাদপুরে সাফ জয়ী ফুটবলার আঁখিকে সংবর্ধনা প্রদান সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ডা: রফিক চৌধুরী জুনিয়র হাই স্কুল পরিদর্শন করলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিচয় মিলেছে সাংবাদিক লিটু দাসের উপর হামলাকারীদের সিরাজগঞ্জে আসন্ন শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে ডিও বিতরণ করলেন এমপি ডাঃ হাবিবে মিল্লাত ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিরাজগঞ্জ ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালিত

রাঙামাটি জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে সুনিদৃষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের অভিযোগ

নির্মল বড়ুয়া মিলন, স্টাফ রিপোর্টার:: রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত উলুছড়া, আলুটিলা, মোষমারা, নির্বানপুর, নোয়াআদাম ও কাটাছড়ি।

এখানে রয়েছে আলুটিলা উলুছড়া পৌর বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপগুপ্ত বন বিহার, ছাবা বৌদ্ধ বিহার, রাঙামাটি স্টিম টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, স্বর্গপুর বন বিহার (কাটাছড়ি ভাবনা কেন্দ্র), কাটাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি গণশিক্ষা পাড়া কেন্দ্র।

পাঁচশতাধিক পরিবারের বসবাস এসব গ্রাম সমুহ্ েযাতায়াতের জন্য রাঙামাটি পৌর এলাকার মুল করিডোরকে যুক্ত করতে রাঙামাটি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয়ের পিছন দিয়ে ভেদ ভেদী-উলুছড়ি, আলুটিলা, মোষমারা, নির্বানপুর, নোয়াআদাম ও কাটাছড়ি এলাকাকে সংযোগ যুক্ত করতে একটি সেতু নির্মানের দাবি দীর্ঘদিনের স্থানীয়দের। যাতে উলুছড়া,আলুটিলা, মোষমারা, নির্বানপুর, নোয়াআদাম ও কাটাছড়ি এলাকার বাসিন্দারা তাদের উৎপাদিত ধান, আদা, হলুদ, আম, কাঠাল, লিচু, লেবু, কলা, আনারস ও ফুল ঝাড়–সহ বিভিন্ন কৃষজাত পণ্য অতি সহজে বাজার করতে পারে। লেবার দিয়ে বহনের ব্যয় কম হলে কৃষক এবং ভোক্তা উভয়ে লাভবান হবে। যে কোন রোগী দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন এবং এসব গ্রামে বসবাসকারীদের স্কুল ও কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা কম সময়ে যাতায়াত করতে পারেন।

এছাড়া উল্লেখিত গ্রামের বাসিন্দারা তাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য, চাউল ও নির্মাণ সামগ্রী অতি সহজেই আনতে যে ভোগান্তি তা লাগব হবে।

একটি সেতুর আশায় উলুছড়ি, আলুটিলা, মোষমারা, নির্বানপুর, নোয়াআদাম ও কাটাছড়ি এলাকার বাসিন্দারা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও রাঙামাটি পৌরসভা কর্তৃপক্ষে নিকট র্দীঘদিন আবেদন করে আসছেন।

২০১৫ সালে একটি সংযোগ সেতুর আবেদন নিয়ে তৎকালিন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমার সাথে উলুছড়ি, আলুটিলা, মোষমারা, নির্বানপুর, নোয়াআদাম ও কাটাছড়ি এলাকার বাসিন্দারা স্বাক্ষাত করিলে তিনি উল্লেখিত এলাকায় এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাতায়াত করার মত ভেদভেদী আনসার ক্যাম্প- উলুছড়া এলাকায় একটি সংযোগ সেতু রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে করে দেয়ার আশ্বাস দেন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে উলুছড়ি, আলুটিলা, মোষমারা, নির্বানপুর, নোয়াআদাম ও কাটাছড়ি এলাকার বাসিন্দারা আশায় বুক বাঁধেন দেশ স্বাধীনের পর প্রথম বারের মত তারা ভেদ ভেদী আনসার ক্যাম্প- উলুছড়া এলাকায় একটি সংযোগ সেতু মাধ্যমে মূল করিডোরের সাথে যুক্ত হতে পারবেন।
২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সরকারি অর্থয়ানে রাঙামাটির আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয়ের পিছন অংশ দিয়ে মুল সড়কের প্রায় ৫শত ফুট নীছে একটি ফুটব্রিজ নির্মান কাজ শুরু করেন। এতে উলুছড়ি, আলুটিলা, মোষমারা, নির্বানপুর, নোয়াআদাম ও কাটাছড়ি এলাকার বাসিন্দারা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তাদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ করেন গণমাধ্যমে। এলাকার বাসিন্দারা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতারণামুলক ফুটব্রিজ চাই না, গাড়ি চলাচলের উপযোগী একটি পূর্নাঙ্গ সংযোগ সেতুর দাবি করেন।

 

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সুবিধাভোগীদের আবেদন আমলে না নিয়ে কেন বা কার স্বার্থ হাসিলের জন্য স্থানীয়দের দাবি উপেক্ষা করে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে গাড়ি চলাচলের উপযোগী পূর্নাঙ্গ একটি সংযোগ সেতু নির্মান না করায় ভোক্তভোগী বাসিন্দারা ক্ষুব্দ।

 

সেতু নির্মাণ না করে স্থানীয়দের ধানের জমি নষ্ট করায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ যেন তাদের পিলার সমুহ্ উঠিয়ে নেন তারও দাবি তোলেন স্থানীয়রা।

৫ জুলাই ২০১৮ সালে স্থানীয় অধিবাসীদের বক্তব্য সহকারে কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ তৎকালিন চেয়ারম্যান, তৎকালিন নিবাহী প্রকৌশলী, জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা (ঠিকাদার) ও স্থানীয় জনৈক সাংবাদিক নেতা উভয়ের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতারণামুলক ফুটব্রিজ নির্মানের বিষয়টি দামাচাপা দেয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯২টি সিড়ি বেয়ে প্রায় ৫শত ফুট নীছে ফুটব্রিজের স্থলে ৫টি পিলার নির্মান করা তাও আবার পাহাড়ি ঢলের পানির ¯্রােত ১টি পিলার ধান ক্ষেত্রে পড়ে আছে।

নিয়ম মোতাবেক সরকারি অর্থে সকল ধরনের নির্মাণ প্রকল্পে, প্রকল্পের নাম, অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানের নাম, ফুটব্রিজের বা সেতুর দৈর্ঘ্য এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ফলক থাকার কথা কিন্তু রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের এ উন্নয়ন কাজে কিছুই নাই।

এবিষয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখায় একাধিকবার তথ্য চেয়েও পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে উলুছড়া গ্রামের প্রধান কারবারী রবিধন চাকমা বলেন, আমরা উলুছড়ি, আলুটিলা, মোষমারা, নির্বানপুর, নোয়াআদাম ও কাটাছড়ি গ্রামের বাসিন্দারা একটি সেতু চেয়ে ছিলাম, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমাদের সাথে কথা দিয়ে সে কথা রাখেননি। বিগত ৫ বছরে ৫টি পিলার ছাড়া আর কিছুই নির্মান করা হয়নি। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে উন্নয়ন কাজের কোন জবাবদিহিতা নাই বলে এ গ্রাম প্রধানের অভিমত।

উল্লেখিত বিষয়ে আলুটিলা গ্রামের বাসিন্দা দয়াময় চাকমা বলেন, আমরা শুনেছি এ অপ্রয়োজনীয় ফুটব্রিজের জন্য রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে এক কোটি সত্তর লক্ষ টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে। একই গ্রামের বনমনি চাকমা বলেন, আমি প্রথমে শুনেছি এক কোটি সত্তর লক্ষ টাকা, পরে আবার শুনেছি পঁয়ষট্টি লক্ষ টাকা। আমার এলাকার জনসাধারন জেলা পরিষদে গিয়ে বার-বার করে জানার চেষ্টা করেছি কিন্তু কেউ এবিষয়ে মুখ খুলছেন না। তিনি যে ভাবে হোক যে কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে জনদুর্ভোগ থেকে বাঁচার জন্য ১টি ব্রিজের দাবি জানান।

এবিষয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি-২৯৯ আসনে সংসদ সদস্য পদে কোদাল মার্কায় প্রতিদন্ধীতাকারী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জুঁই চাকমা বলেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া যাঁরা রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।

তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি পৌর এলাকার উলুছড়ি, আলুটিলা, মোষমারা, নির্বানপুর, নোয়াআদাম ও কাটাছড়ি করিডোরকে মুল সড়কের সাথে যুক্ত না করে ফায়দা লুটার দায়ভার অবশ্যই রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদকে নিতে হবে। কোন ধরনের কারণ ছাড়া সরকারি অর্থ অপচয়কারী এবং পুরো বিষয়টি যাচাই-বাচাই করে এর জন্য দায়বদ্ধ সকলকে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। এধরনের প্রকল্প প্রনয়ণ এবং বাস্তবায়নের আগেই এই অর্থের ব্যয় এবং অপচয় যাঁরা করেছেন বা করছেন তাদের চিহ্নিত করে জনস্বার্থে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা জরুরী। শুরুতেই সেতু নির্মানের বিষয়ে পরিকল্পনাটা ঢেলে সাজানো উচিত ছিলো। রাষ্ট্রিয় অথের্র অপচয় এর দায়ভার কে নিবেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সমুহ্ েসকল উন্নয়ন কর্মকান্ড সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হয় কি-না তা যাচাই-বাচাইর জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের অধিনে একটি সেল গঠনে সরকারের পদেক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান সমাজ সেবক জুঁই চাকমা।

জুঁই চাকমা বলেন, অনেকেই বলেন, এ সরকারের সময়কালিন সারা দেশে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে সেভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন হয়নি। দুর্নীতি এবং সঠিক তদারকির অভাবে দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে উন্নয়নের জন্যে পার্বত্য অঞ্চলে যে বিশেষ উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করার কথা ছিল সে রকম উন্নয়ন হয়নি।

সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় এবং ফুটব্রিজ নির্মানের বিষয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ বর্তমান চেয়ারম্যান অংসু প্রু চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা উভয়ে এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।

এই নিউজটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত,© এই সাইডের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি  
Design & Developed BY ThemeNeed.com