২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

Table of Contents

দীঘিনালায় সরকারী বই আত্মসাৎ করার অপরাধে দুদকের মামলা

নির্মল বড়ুয়া মিলন, স্টাফ রিপোর্টার:: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিনামুল্যে সরকারী বিতরনযোগ্য ১২ হাজার ৭৮০টি বই আত্মসাৎ, বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করার অপরাধে দীঘিনালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাম অফিস সহকারী ও এমএলএসএস এর  বিরুদ্ধে দুর্ণীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাঙামাটি এর সহকারী পরিচালক আহামদ ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা থানার সাধারন ডায়েরী নং-৩৪, তারিখ ১ এপ্রিল-২০২২ একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এ মামলার আসামীরা হচ্ছে গৌতম চক্রবর্তী (৫৬) ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাম অফিস সহকারী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, পিতা- মৃত কৃষ্ণবন্ধু চক্রবর্তী মাতা- মৃত সুরবালা চক্রবর্তী সাং- ভোমরকান্দি ঠাকুরবাড়ী থানা- চান্দিনা, জেলা কুমিল্লা, মো. রুবেল (২৬) এমএলএসএস (অস্থায়ী) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, পিতা মৃত আব্দুস সামাদ, মাতা হাসিনা বেগম, সাং- পশ্চিম কাঁঠালতলী, ওয়ার্ড নং -৮, বোয়ালখালী ইউপি, থানা দীঘিনালা, খাগড়াছাড় পার্বত্য জেলা ও ট্রাক নং- ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-২১১৪ এর চালকসহ আরো অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন।

আসামীদের বিরুদ্ধে গত ৩১ মার্চ-২০২২ তারিখ রাত ১১টা ১০ মি. সময় দীঘিনালা উপজেলা চত্ত্বরের পরিত্যক্ত মৎস্য ভবনের ( যা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত) কক্ষ থেকে সরকার ঘোষিত বিনামূল্যে বিতরনযোগ্য ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর (মাদ্রাসা বোর্ডের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীসহ) বিভিন্ন বিষয়ের আনুমানিক ১২ হাজার ৭৮০ টি বই অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য পরস্পর যোগসাজসে অপরাধমূলক বিশ^াসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে ট্রাকে লোড করত দন্ডবিধি ৪০৯/৫১১/১০৯ ধারা এবং তৎসহ ১৯৪৭ সনের দুর্ণীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরনে জানা যায়, উল্লেখিত তারিখ ও সময়ে দীঘিনালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গোডাউন থেকে কে বা কাহারা ট্রাক নং ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-২১১৪ এ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিনামুল্যে সরকারী বিতরনযোগ্য বই লোড করছিলেন বলে একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৯)  খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাকে মোবাইলে অবহিত করেন।

তৎপ্রেক্ষিতে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামীদের বই ট্রাকে লোডকৃত অবস্থায় দেখতে পান।

পরবর্তীতে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মো. মঈন উদ্দিন (৪৭) ইন্সট্রাকটর (ইউআরসি), পিতা মৃত  আনোয়ার আহম্মেদ, মাতা আঙ্গুর আহম্মেদ সাং পূর্ব চর চান্দিয়া, থানা- সোনাগাজী, জেলা ফেনী, মো. ইয়াছিন হোসেন (২৬) সার্ভেয়ার এলজিইডি দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি, পিতা- মো. সিরাজুল ইসলাম, মাতা- জাহানারা বেগম, সাং শীলাস্থান, থানা- কচুয়া, জেলা চাঁদপুর, মো. আরিফুল ইসলাম (২৭) উপসহকারী প্রকৌশলী, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, পিতা- মো. এনামুল হক, মাতা- কোহিনুর বেগম সাং- উত্তর সোনাপাহাড়, থানা জোরারগঞ্জ জেলা-চট্টগ্রাম, মো. মোসলেম উদ্দিন (৪০) (বিডিপি) পিতা-আব্দুল কাদের মুন্সী, মাতা-সবুরা বিবি, সাং- উত্তর কবাখালী, থানা দীঘিনালা, জেলা খাগড়াছড়ি স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে আসামীগণ কি কারণে সরকার ঘোষিত বিনামূল্যে বিতরনযোগ্য বই ট্রাকে লোড করছিলেন জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামীগণ কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষনিকভাবে দীঘিনালা থানা পুলিশকে আসামীদেরকে আটক এবং বইসহ লোডকৃত ট্রাক জব্দ করার নির্দেশ দেন। দীঘিনালা থানার সাধারন ডায়েরী নং ১৪০৫, তারিখ ৩১ এপ্রিল-২০২২ ইংরেজি।

ঘটনাস্থল থেকে ৩১ এপ্রিল-২০২২ সময় রাত সাড়ে ১১ টায় ট্রাক নং ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-২১১৪ এবং ট্রাকে লোডকৃত বই সমূহ জব্দ করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাকের চালক ও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন পালিয়ে যায়।

আসামী গৌতম চক্রবর্তী ও মো. রুবেল দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে সরকার ঘোষিত বিনামূল্যে বিতরনযোগ্য বই অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য পরস্পর যোগসাজসে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় দীঘিনালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আব্দুল্লাহ আল মামুন খাগড়াছড়ি জেলার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাক্রমে দিঘিনালা থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিকট একটি এজাহার দায়ের করেন এবং আসামীদের থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পরবর্তীতে এজাহারে দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় তা দীঘিনালা থানার ডায়েরী নং-৩৪ তারিখ ১ এপ্রিল-২০২২ খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার কার্যালয়ের স্বারক নং অপরাধ ২০০১/১ম খন্ড তারিখ ১ এপ্রিল-২০২২ মুলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপপরিচালক দুর্ণীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাঙামাটি বরাবর প্রেরণ করেন।

দুর্ণীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রাঙামাটি বর্ণিত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দুর্ণীতি দমন কমিশনের অনুমোদনের জন্য যথাযত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্মারক নং ০০.০১.৮৪০০.৭১৬.৯৯.০০. ২২-৩৮৩ তারিখ ৪ এপ্রিল-২০২২ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরন করেন।

দুর্ণীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের স্মারক নং ০০.০১.৪৬০০. ৬২৬. ০১. ০৯৫. ২২/ খাগড়াছড়ি/১৪২৮৩ তারিখ ৭ এপ্রিল-২০২২ অনুমোদন প্রদান করেন।

দুর্ণীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাঙামাটি এর উপ পরিচালক ০০.০১.৮৪০০.৭১৬.০২.০০১.২২-৪০৫ তারিখ ৯ এপ্রিল-২০২২ আসামীদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি ৪০৯/৫১১/১০৯ ধারা এবং তৎসহ ১৯৪৭ সনের দুর্ণীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্ণীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাঙামাটি এর সহকারী পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts