২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

Table of Contents

রামগড় পৌরনির্বাচনে হ্যাট্রিক জয় পেতে নৌকার প্রত্যাশায়  রিপন

পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি:: আসন্ন ২নভেম্বর দেশের ১০টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার(২৯সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের ৮৬তম সভা শেষে ১০টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন ইসি সচিব হুমায়ূন কবীর খন্দকার।

তফসিল অনুযায়ী আগামী ২নভেম্বর ইভিএমের মাধ্যমে রামগড় ও ছাগলনাইয়া পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর পদে ভোট গ্রহণ করা হবে।

ষোষনাত পৌরসভাগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়ির সাবেক মহকুমা শহর রামগড় পৌরসভা রয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর  নির্বাচনী আমেজ বইতে শুরু করেছে।

ইতিমধ্যেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের টিকেট পেতে মরিয়া নির্বাচনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীরা। এদের মধ্যে রয়েছেন টানা ২বার নির্বাচিত বর্তমান পৌর মেয়র ও সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ শাহজাহান (রিপন), পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল আলম কামাল এবং পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের।

এছাড়া, বিরোধী দল বিএনপি থেকে এখনো কেউ প্রকাশ্যে প্রচারণায় না আসলেও সাবেক কাউন্সিলর জসিম উদ্দিনের নির্বাচনে প্রার্থী হবার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা আওয়ামীলীগ থেকে নতুন করে কারো মনোনয়ন চাওয়াও স্বাভাবিক ব্যাপার।

বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান কাজী রিপন টানা ২বার জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি প্রথমবার ২০১১সালে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৬সালে দ্বিতীয় বার মেয়র নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীক নিয়ে। তার বাবা কাজী রহুল আমীন ছিলেন ১৯৭১সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রামগড় সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক। মেয়র রিপন ১৯৯৮সালে রামগড় ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য, ২০০৩সালে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৮সাল থেকে ২মেয়াদে উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১সালে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে কাজী রিপন মেয়র নির্বাচিত হলেও ২০১৬সালে দ্বিতীয় মেয়াদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীক নিয়ে পৌর মেয়র হিসেবে বিজয়ী হতে তাকে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে। সে সময় তার বিপক্ষে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন, বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কারবারী।

এছাড়া, বর্তমানে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল আলম কামাল ইতিপূর্বে জনপ্রতিনিধির কোন দায়িত্ব পালন না করলেও রাজনীতিতে ভালোই অভিজ্ঞতা রয়েছে।তিনি প্রবীন রাজনীতিবিদ মরহুম আবদুল গফুর সর্দারের সন্তান।

অন্যদিকে, আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের রামগড় উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতিও। এর আগে তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ১নং রামগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমান পৌর মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান কাজি রিপন বলেন, আমি পরপর দুবার রামগড় পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছি। প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর পৌর এলাকায় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের গতি দেখে দ্বিতীয়বার নির্বাচনে জয়ী হতে বেগ পেতে হয়নি। পৌরবাসী সুযোগ দিলে আগামীতে এ পৌরসভায় একটি শিশু পার্ক, নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান স্থাপন, পৌরসভা অভ্যন্তরে অডিটরিয়াম স্থাপন ও ঈদগাহ ময়দান প্রশস্তকরণের পরিকল্পনা রয়েছ।

মেয়র বলেন, আমি বাস্তবে বিশ্বাসী। অবস্থা ও সার্বিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। ফলে কতিপয় লোকের ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় তারা বিভিন্ন সময় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করে আসছে। আমি শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও মানুষের ভালোবাসা নিয়ে করোনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতায় জনগণের মাঝে যাবতীয় পদক্ষেপ এবং সরকারের গৃহীত কর্মসূচি সফলতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। পৌর এলাকায় এমন কোনো ওয়ার্ড নেই, যেখানে ড্রেন ও আরসিসি ওয়াল ও রাস্তার কাজ করা হয়নি। প্রতিটি ওয়ার্ডে সমহারে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮০শতাংশ সমস্যা সমাধান করতে পেরেছি। অল্প কিছু কাজ আমার এখনো বাকি আছে। এছাড়া জনকল্যাণমূলক কাজ মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম-উন্নয়নে সর্বদা নিয়োজিত রয়েছি।

প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম চালু রয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে পৌরসভা এলাকার সকল বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও বয়স্কদের শতভাগ সরকারি ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছি।

এছাড়া, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশে রামগড় পৌরবাসীকে সম্পৃক্ত করার অঙ্গিকারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলে শেষ তারিখ আগামী ৯অক্টোবর। মনোনয়রপত্র বাছাই ১১অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭অক্টোবর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts