২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

Table of Contents

পানছড়িতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এলজিইডির কর্মযজ্ঞ

পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি:: পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির অপরাপর উপজেলাগুলির ন্যয় প্রত্যন্ত পানছড়ির জনপদের উন্নয়নেও এলজিইডির কর্মযজ্ঞ চলছে অব্যাহত গতিতে।

দেশের পল্লি অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ এবং হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এলজিইডি যে অবদান রেখেছে তা আজ দৃশ্যমান।

বিশেষ করে এ উপজেলায় ২০২০-২১ইং অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের(এলজিইডি) তত্বাবধানে বাস্তবায়িত কাজ গুলো চোখে পড়ার মতো।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, PDP-4 প্রকল্পের আওতায় গংগারাম, লোগাং, মেহেরচাঁন, কালানাল, মির্জাটিলা, হাসান নগর ও উত্তর ফাতেমানগর বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার ১১টি স্কুলের একাডেমিক ভবন ১১কোটি টাকা,
রাবার ড্যাম ৩ কোটি ৬২লক্ষ টাকা,
৫টি স্কুলের বাউন্ডারি ওয়াল ১কোটি টাকা,
ফাতেমা নগর ৪কি.মি. রাস্তা ৪কোটি টাকা,
করল্যাছড়ি ১কি.মি. রাস্তা ২কোটি টাকা,
উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারিত ভবন ও হল রুম নির্মাণে ৫কোটি ৮০লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

গংগারাম-দীঘিনালা ১০কি.মি. রাস্তা নির্মাণে ১০কোটি টাকার কাজ ছাড়াও এ উপজেলায় ব্রীজ-কালভার্টের নির্মাণ কাজসহ প্রায় শতকোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে।

এছাড়াও RIDP-2 প্রকল্পের আওতায় করল্যাছড়ি, চিকনছড়া, ফাতেমা নগর, কলেজ গেইট, নালকাটা, তারাবনছড়া, হাসাননগরে সড়কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পানছড়ি রাবার ড্যামে স্মল স্কিল ও বিভিন্ন স্থানে এলজিইডির ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন ও চলমান রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অরুন কুমার দাশ জানান, দেশের প্রতিটি গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করা। যাতে গ্রামের লোকজনকে শহরমূখী হতে না হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ভিশনের লক্ষ্যে পানছড়িতে স্বচ্ছতার সাথে এলজিইডির কার্যক্রম চলমান। ২০২০-২১ইং অর্থবছরের চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার দেব বলেন, এ উপজেলায় এলজিইডি’র পাশাপাশি এলজিএসপি, টিআর, কাবিখা, জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন বিভাগের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলছে। এটা বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের অবদান। এ এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নাই।

তবে একটি চক্র সরকারের এ উন্নয়ন কার্যক্রম ও উপজেলার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে কাল্পনীক অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল মোমিন বলেন, পানছড়িতে এলজিইডি’র উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গুলো দৃশ্যমান। উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন, বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র ও অসহায়দের বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বকালীন ভাতা, আশ্রয়ন প্রকল্পের প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর নির্মাণসহ নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে উপজেলাবাসী৷ উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামীলীগ তথা বর্তমান সরকারের কোন বিকল্প নেই।

দেশের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি অর্জনে এসব অবকাঠামোর অবদান অপরিসীম। প্রত্যন্ত পল্লির মানুষ আজ সর্বোচ্চ দুই কিলোমিটারের মধ্যে পাকা সড়ক ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে পল্লির এসব অবকাঠামো ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এলজিইডি শহর ও নগর অঞ্চলেও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে (পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন) কারিগরি সহায়তা প্রদান ও এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়নেও এলজিইডি কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts