২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

Table of Contents

শার্শার গোগায় অর্থের লোভে অসহায় নারীকে ব্যাপক মারধর! থানায় অভিযোগ

বেনাপোল প্রতিনিধি:: যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা দাস পাড়া গ্রামে অর্থের লালসায় এক নারীকে মারধোর করে রক্তাত্বের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী নেতা ও তার ছেলের নামে। এঘটনায় ৩ জনের নামে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছে।

শুক্রবার বিকালে ভুক্তভোগী নারী শরিফা বেগম শার্শা থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নিশ্চিত করেন। এর আগে গত বুধবার বিকালে মারধরের ঘটনা ঘটে

অভিযুক্তরা হলেন, ফাইটার, ফাইটারের ছেলে ও শরিফার মা জাহানারা বেগম।

ভুক্তভোগী নারী শরিফা খাতুন জানান, ১৩ বছর বয়সে পরিবারের অভাব-অনটনের কারনে জীবিকার সন্ধানে ভারতে যায়। সেখানে লোকের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে দেশে মাকে টাকা পাঠাতেন। সেই টাকা দিয়ে তার মায়ের নামে জমি কেনা আর কিছু লিজ নেয়া হয়। তার টাকায় ভিটা বাড়িও তৈরী করা হয়। সে অসুস্থ্য হলে ৫ মাস আগে ভারত থেকে দেশে চলে আসে। বাড়িতে ফিরে নিজের চিকিৎসা আর তার ৫ মাস বয়সি সন্তানের দুধের টাকা চাইলে মা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এর মধ্যে মা কয়েকটি জমি বন্ধকের টাকা তুলে নিয়ে হঠাৎ করে জামা,কাপড় গুছিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতে চায়। বাড়ি থেকে যেতে বাধা দিলে তার মায়ের সাথে অশান্তি হলে হাতাহাতি হয়। পরে তার মা বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রতিবেশির বাড়িতে উঠে। মায়ের কাছ থেকে টাকা খেয়ে তাদের বাড়িতে এসে তাদের দুই বোনকে বেধড়ক মারপিট ও রক্তাত্ব করে হুমকি দিয়ে যায় প্রতিবেশি ফাইটার ও তার ছেলে । পরে স্থানীয়দের পরামর্শে তাদের নামে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নিজের জীবনের সব সঞ্চয় হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছে বলে জানায় শরিয়া বেগম । তিনি আরো বলেন,ভারতে যাওয়ার আগে অল্প বয়সে খাবার কষ্ঠে বিভিন্ন গ্রামে ২০/২৫টাকায় দিন-মজুরি দিয়ে সেই টাকা দিয়ে খাবার সংগ্রহ করে অবশিষ্ট টাকা জমিয়ে সে আমলে কিছু জমি মায়ের নামে ক্রয় করে।আমারা তিন বোন কোন ভাই নেই। মা বাড়িতে ফিরে আসুক।

এদিকে শরিফা খাতুনের মা জাহানারা খাতুন জানান, মেয়ে টাকা পাঠালেও এ সম্প্রতি তৈরী করতে তার অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। এসব মেয়ের একা না। তার ও অনেক অবদান রয়েছে। এখন ওর সম্পতি দিলে বেঁচে কিনে অন্য জাইগায় চলে যাবে তাই দিচ্ছি না। জমি দিচ্ছি না বলে মেয়ে মারধোর করেছে বলে উল্টা অভিযোগ তোলেন মা। এসময় বাইরের লোক দিয়ে মেয়েকে ধারধোর করানোর বিষয়ে মায়ের জানতে চাইলে বলেন, তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় তারা তার মেয়েকে বকা ঝকা করেছে।

এদিকে অভিযুক্ত ফাইটার অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে শরিফাকে মারধোরের বিষয়টি অস্বিকার করে বলেন, মারামারি থেকাতে গিয়ে যদি আমার দোষ দেয় তাহলে কিছু বলার নাই।

শার্শার গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, সংসারে অভাবের কারনে অনেক ছোট বেলায় মেয়েটি ভারত চলে যায়। ভারতে যাওয়ার আগে মেয়েটির মার নামে তেমন কোন সম্পদ ছিলনা। আমাদের জানা মতে মেয়ের পরিশ্রমের টাকা দিয়ে পরে এ সম্পদ তার মা করেছে। তবে দুই পক্ষ যদি বিচার দেয় তবে সম্পদের প্রকৃত মালিক কে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে খতিয়ে দেখে সু-বিচার করা হবে।

শার্শার বাগআঁচড়া ফাড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ফরিদ ভূইয়া জানান,থানায় মেয়ে পক্ষ অভিযোগ করেছে।পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে বসে মিমাংসা বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির জন্য এখন সম্ভব হচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts